ঢাকা ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬

স্বপন কৃষ্ণ কর : বরিশালের স্বনামধন্য দানবীর, শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী অমৃত লাল দে ১৯২৪ সালের ২৭ জুন তৎকালীন ফরিদপুর জেলার (বর্তমান শরীয়তপুর) আঙ্গারিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর বাবা”র নাম রাসমোহন দে এবং মা সারদা দেবী, বাবা”র অসুস্থতার কারণে মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে, শৈশব সংগ্রাম: অর্থাভাবে লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বিড়ি কারখানায় কাজ শুরু করেন, ১৯৪২ সালের দুর্ভিক্ষের সময় কাজের সন্ধানে তিনি বরিশালে পাড়ি জমান এবং বিড়ি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন, ১৯৪৮ সালে বন্ধু অনন্ত কুমার দাসের সাথে মিলে বরিশালের বিবির পুকুর এলাকায় নিজ হাতে বিড়ি তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন, অক্লান্ত পরিশ্রম ও সততার বদৌলতে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরবর্তীতে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান ‘কারিকর বিড়ি কারখানা’-এ রূপ নেয়。সমাজসেবা ও শিক্ষায় অবদাননিজের অতীত কষ্ট ও মায়ের মৃত্যুর কথা মনে রেখে তিনি সারা জীবন দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন。 তাঁর প্রধান অবদানগুলো হলো: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: তিনি বরিশালে অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় (যেটি অমৃত লাল দে কলেজ নামেও পরিচিত) এবং অমৃত লাল দে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের তত্ত্বাবধানে অমৃত লাল দে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে,তিনি মন্দির, মসজিদ ও মাদ্রাসা—সব জায়গাতেই উদারহস্তে দান করতেন। এজন্য তিনি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে ‘অমৃত দা’ বা ‘বড় কাকু’ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসারে তিনি ‘অমৃত লাল দে সংগীত একাডেমি’ও প্রতিষ্ঠা করেন, ১৯৯৩ সালের ১৪ জুন মানবপ্রেমী ও কর্মবীর অমৃত লাল দে মৃত্যুবরণ করেন。 জনকল্যাণে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য তিনি বরিশালের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। অমৃত লাল দে’র ৩৩ তম মৃত্যু দিবসে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সমাধীতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক বৃন্দ, অমৃত কঞ্জুমার ফুড প্রোডাক্টসের সদস্য বৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অমৃত লাল দে কলেজে তার জীবনী সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। পরিশেষে অনাথদের খাবার বিতরন করা হয় এবং বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থনা করা হয়।


সম্পাদক : সুরঞ্জিত দত্ত লিটু
প্রকাশক : কমল দাস শুভ
উপদেষ্টা : মৃনাল কান্তি সাহা, অধ্যক্ষ বিমল চক্রবর্তী, ডাঃ ডি বি পাল , কমল সেন গুপ্ত, প্রকৌশলী দেবব্রত দত্ত।
আইন উপদেষ্টা : এড. পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক : শিক্ষক বিশ্বনাথ রায়।
নারী বিষয়ক উপদেষ্টা : অপর্ণা খাঁ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : স্বপন কৃষ্ণ কর
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬